সাধন কুমার পাল
উৎসব নয় এবার আমরা ধর্ষক ও প্রমাণ লোপাটকারীদের ধ্বংসের সংকল্প নিয়ে অকালবোধনে মেতে উঠবো।হ্যাঁ ,আমরা উৎসবে ফিরবো, তবে নির্ভয়ার বিচারের দাবি ভুলে গিয়ে নয়। আমরা এবার মাকে প্রশ্ন করব," আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
--------------
মাদীগুলোর আদি দোষ ঐ অহিংসা বোল নাকি-নাকি
খাঁড়ায় কেটে কর মা বিনাশ নপুংসকের প্রেমের ফাঁকি।
ঢাল তরবার, আন মা সমর, অমর হবার মন্ত্র শেখা,
মাদীগুলোয় কর মা পুরুষ, রক্ত দে মা রক্ত দেখা।
তুই একা আয় পাগলী বেটী তাথৈ তাথৈ নৃত্য করে
রক্ত-তৃষার ‘ময়-ভুখা-হু’র কাঁদন-কেতন কণ্বে ধরে।"
এবার আমাদের প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে একটিই গান বাজবে,
"মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে লড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি(২)
আমরা হারবোনা,হারবোনা
তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়বনা(২)
আমরা পাথর দিয়ে দূর্গ ঘাটি গড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা অপমান সইবনা
ভীরুর মত ঘরের কোণে রইবনা(২)
আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে ঝড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা পরাজয় মানবনা
দূর্বলতায় বাঁচতে শুধু জানবোনা(২)
আমরা চিরদিনই হাসি মুখে মরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্র এলে অশ্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি"
এবার ঢাকের তালে তালে বাজবে আন্দোলনের সুর,
জাস্টিস ফর ,আর জি কর- আর জি কর
চল-চল-চল!
ঊর্ধ্ব-গগনে বাজে মাদল, নিম্নে উতলা ধরণি-তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল, চল রে চল রে চল।
চল-চল-চল!
উষার দুয়ারে হানি আঘাত, আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত, বাধার বিন্ধ্যাচল।
নব নবীনের গাহিয়া গান, সজীব করিব মহাশ্মশান,
আমরা দানিব নতুন প্রাণ, বাহুতে নবীন বল।
চল রে নৌ-জোয়ান, শোন রে পাতিয়া কান –
মৃত্যু-তোরণ-দুয়ারে-দুয়ারে জীবনের আহ্বান।
ভাঙরে ভাঙ আগল, চল রে চল রে চল।
চল-চল-চল॥
এবার আমাদের প্যান্ডেলের মূল ফটকে ঝুলবে নির্ভয়ার প্রতীকি ছবিসহ বিচারের দাবি,' উই ডিমান্ড জাস্টিস', প্যান্ডেলের ভেতরে জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকবে নির্ভয়ার স্মৃতিতে সবচাইতে বড় এবং উঁচু প্রদীপ স্তম্ভ, মাইকে গর্জন করতে থাকবে প্রতিবাদী গান, আমরা পুজোর চার দিনই সমবেতভাবে অঞ্জলীর আগে উচ্চস্বরে শপথ নেব নির্ভয়া তোমায় ভুলছি না, মায়ের কাছে কাতর আবেদন জানাবো শুধু ধর্ষকদের নয় যারাই দর্শকদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে তাদেরও যেন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারি। আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করব যাতে আমরা ধর্ষণমুক্ত, নারীর সম্মান যুক্ত এক সুন্দর সমাজ গড়তে পারি।
আমরা সেই প্যান্ডেল বয়কট করব যে প্যান্ডেল প্রমান লোপাটকারীদের হাত দিয়ে উদ্বোধন হবে, যেখানটায় নির্ভয়ার বিচারের দাবি সূচক ব্যানার থাকবে না, যেখানে নির্ভয়ার স্মৃতিতে উঁচু প্রদীপ স্তম্ভ থাকবে না, যেখানে মাইকে প্রতিবাদী গানের গর্জন শোনা যাবে না, যেখানে পুষ্পাঞ্জলীর আগে নির্ভয়ার আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা থাকবে না। হ্যাঁ আমরা সেই প্যান্ডেলেই ঢুকবো না যেখানে দেখবো নির্ভয়ার স্মৃতিহীন চটুল আনন্দ উৎসব চলছে, প্রমাণ লোপাটকারীদের হাসিমুখের ছবি সম্বলিত ব্যানার ঝুলছে ।আসলে হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্তদের বিনাশ করার সংকল্প নিয়ে আয়োজিত শক্তি সাধনাকে নির্ভেজাল আনন্দ উৎসবের রূপ দিয়ে, হইহুল্লোড়ের আড়ালে ধর্ষকদের, প্রমাণ লোপাটকারীদের অপকীর্তি অভিসন্ধি ভুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
"দুর্গা দুর্গতিনাশিনী".....
উৎ-শবের নয়, আরাধনার !
ধর্মের সাথে অধর্মের যুদ্ধে 'অকালবোধন' শ্রীরামচন্দ্র করেছিলেন !
মোচ্ছব ছেড়ে এবছর বাঙ্গালী সেই আরাধনাতেই ব্রতী হবে !
অকালবোধন হল শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রারম্ভিক অনুষ্ঠান। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথি অথবা শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে হিন্দু দেবীপার্বতীর দুর্গা রূপের পূজারম্ভের প্রাক্কালে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, শরৎকাল দেবলোকের রাত্রি দক্ষিণায়নের অন্তর্গত। তাই এই সময় দেবপূজা করতে হলে, আগে দেবতার বোধন (জাগরণ) করতে হয়।
অকালবোধন শব্দের অর্থ কি? সংস্কৃতে অকাল শব্দের অর্থ হল অসময় , শুভ কর্মের জন্য নিষিদ্ধ সময় । বোধন শব্দের অর্থ হল জাগান, উদ্বোধন বা নিদ্রা ভঙ্গকরণ। অকালবোধন মানে হল অসময়ে জাগানো। নারী নির্যাতক রাবণকে হত্যা করার জন্য দেবী দুর্গাকে অসময়ে জাগিয়ে পুজো করা হয়েছিল।
একাধিক পুরাণ ও অন্যান্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যে, রাবণ বধের পূর্বে শ্রীরাম দেবী পার্বতীর কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে বিল্ববৃক্ষতলে বোধনপূর্বক দুর্গাপূজা করেছিলেন। শরৎকাল দেবপূজার ‘শুদ্ধ সময়’ নয় বলে রাম কর্তৃক দেবী পার্বতীর বোধন ‘অকালবোধন’ নামে পরিচিত হয়। উল্লেখ্য, শাস্ত্রমতে বসন্তকাল দুর্গাপূজার প্রশস্ত সময় হলেও, আধুনিক যুগে শারদীয়া দুর্গাপূজাই অধিকতর প্রচলিত।রাবণ বসন্ত কালে চৈত্র মাসে দেবী পার্বতী কে পুজো করে সন্তুষ্ট করলে দেবী তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু যদি সে দেবীর পূজা মন্ত্রে শ্রী শ্রী চন্ডিতে কোনো রূপ ত্রুটি করে তবে দেবী তাকে ত্যাগ করবেন। এই কারণে রামের সকল অস্ত্র রাবণের উপর বিফল হয়ে যায়। তখন ব্রহ্মা রামচন্দ্র কে দেবী পার্বতীর পুজো করতে বলেন। কারণ দেবী এই সময় মর্ত্যে তাঁর মাতা পিতা র গৃহে আসেন। রাম দেবী পার্বতীর পুজো করলে দেবী কর্তৃক তাঁর উদ্দেশ্যে আনা একটি পদ্ম তিনি হরণ করেন। তখন রামচন্দ্র নিজ চক্ষু দেবী কে দান করতে চাইলে দেবী পার্বতী তাঁকে বিরত করেন ও বর দেন। তার পর হনুমান দশমী তিথিতে রাবণ কল্যাণে শ্রী চন্ডী পাঠ রত বৃহস্পতি কে অজ্ঞান করে শ্রী চন্ডী অশুদ্ধ করলে রাবণ কে ত্যাগ করেন দেবী। রাবণ দেখে দেবী তাকে ত্যাগ করে কৈলাসে চলে যাচ্ছেন রাবণের শত মিনতি সত্ত্বেও দেবী পার্বতী আর ফিরে তাকালেন না। তারপর রামচন্দ্র রাবণ বধ করেন।বর্তমান যুগে দেবীর অকাল বোধন রূপটির ও পূজা করা হয়ে থাকে। ##



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন