"সুজলা সুফলা' বঙ্গভূমি তৃষিত হইয়া উঠিয়াছে। কিন্তু সে চাতক পক্ষীর মতো ঊর্ধ্বের দিকে তাকাইয়া আছে-- কর্তৃপক্ষীয়েরা জলবর্ষণের ব্যবস্থা না করিলে তাহার আর গতি নাই। গুরুগুরু মেঘগর্জন শুরু হইয়াছে-- গবর্মেন্ট সাড়া দিয়াছেন-- তৃষ্ণানিবারণের যা-হয় একটা উপায় হয়তো হইবে-- অতএব আপাতত আমরা সেজন্য উদ্বেগ প্রকাশ করিতে বসি নাই। আমাদের চিন্তার বিষয় এই যে, পূর্বে আমাদের যে একটি ব্যবস্থা ছিল, যাহাতে সমাজ অত্যন্ত সহজ নিয়মে আপনার সমস্ত অভাব আপনিই মিটাইয়া লইত-- দেশে তাহার কি লেশমাত্র অবশিষ্ট থাকিবে না? আমাদের যে-সকল অভাব বিদেশীরা গড়িয়া তুলিয়াছে ও তুলিতেছে, সেইগুলাই নাহয় বিদেশী পূরণ করুক। অন্নক্লিষ্ট ভারতবর্ষের চায়ের তৃষ্ণা জন্মাইয়া দিবার জন্য কর্জনসাহেব উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছেন, আচ্ছা, নাহয় অ্যাণ্ড্রুয়ুল্-সম্প্রদায় আমাদের চায়ের বাটি ভর্তি করিতে থাকুন; এবং এই চায়ের চেয়েও যে জ্বালাময় তরলরসের তৃষ্ণা-- যাহা প্রলয়কালের সূর্যাস্তচ্ছটার ন্যায় বিচিত্র উজ্জ্বল দীপ্তিতে উত্তরোত্তর আমাদিগকে প্রলুব্ধ করিয়া তুলিতেছে-- তাহা পশ্চিমের সামগ্রী এবং পশ্চিমদিগ্দেবী তাহার পরিবেশনের ভার ...
🌋 উত্তরবঙ্গ লুটের মহাকাব্য: প্রকৃতির কান্না, আর রেড রোডের কার্নিভালে তুরুক তুরুক নাচ সাধন কুমার পাল 🌧️ বিপর্যয়ের দিনে উৎসবের উল্লাস ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর, শনিবার রাতে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেঁপে উঠেছিল দার্জিলিংয়ের পাহাড় ও সমগ্র উত্তরবঙ্গ। ৫ অক্টোবর রবিবার সকালে ভেসে ওঠে ধ্বংসের বিভীষিকা—প্রায় ২৮ জনের মৃত্যু, অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দিনই কলকাতার রেড রোডে দুর্গাপূজার কার্নিভালে অংশ নিলেন—একঝাঁক তারকার সঙ্গে নৃত্য ও আনন্দে মেতে উঠলেন। এই দৃশ্য দেখে পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ হতবাক। যখন উত্তরবঙ্গ দুঃসহ বেদনায় কাঁপছে, তখন রাজ্যের অভিভাবিকা উৎসবের আলোয় উজ্জ্বল! সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন ভাইরাল হচ্ছিল এক পোস্ট— “উত্তরবঙ্গে মৃত্যু ২৮, মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় নাচে ব্যস্ত! প্রধানমন্ত্রী টুইট করেছেন দুপুরে ১২:৪২-এ, মুখ্যমন্ত্রী করেছেন ১:৫৮-এ। কলকাতায় একফোঁটা বৃষ্টি হলে রাজ্যজুড়ে স্কুল বন্ধ হয়, আর উত্তরবঙ্গের মৃত্যু ও বিপর্যয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিন্দুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ নয়!” বি...