সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রতিস্থাপন হার” বা Replacement Rate


লিখেছেন::: সাধন কুমার পাল


“প্রতিস্থাপন হার” বা Replacement Rate (fertility context-এ) বলতে বোঝানো হয়, প্রতি দম্পতি বা প্রতি নারীকে গড়ে কতজন সন্তান জন্ম দিতে হবে যাতে পরবর্তী প্রজন্মে জনসংখ্যা একই মাত্রায় বজায় থাকে।

👉 সাধারণত এই হারকে ধরা হয় ২.১

• ২ শিশু প্রয়োজন বাবা-মা–কে প্রতিস্থাপন করার জন্য।

• বাড়তি ০.১ রাখা হয় শিশু মৃত্যুহার, মাতৃমৃত্যু, এবং যেসব মানুষ সন্তান জন্ম দেয় না—তাদের জন্য সমন্বয় হিসাবে।

📌 অর্থাৎ,

• যদি কোনো দেশের জন্মহার ২.১-এর উপরে হয় → জনসংখ্যা বাড়বে।

• যদি জন্মহার ২.১-এর নীচে হয় → জনসংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

উদাহরণ:

• ভারতে বর্তমানে Total Fertility Rate (TFR) প্রায় ২.০-এর কাছাকাছি, মানে জনসংখ্যা স্থিতিশীল হচ্ছে।

• জাপান বা ইউরোপের অনেক দেশে TFR অনেক কম (প্রায় ১.৩–১.৬), তাই ওদের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে।
• পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক অবস্থা

• সর্বমোট জন্মহার (TFR): প্রায় ১.৬–১.৭, অর্থাৎ প্রতিস্থাপন হারের নিচে

• হিন্দুদের মধ্যে TFR: প্রায় ১.৫–১.৬

• মুসলিমদের মধ্যে TFR: প্রায় ২.০–২.২

অর্থাৎ মুসলিম পরিবারে গড়ে সন্তানের সংখ্যা কিছুটা বেশি। এটা  পরিসংখ্যান। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বাস্তবের এর চাইতে অনেকটাই বেশি। অশিক্ষা, জন্মনিয়ন্ত্রণ না করানো মৌলবাদীদের মিথ্যে প্রচার, অনুপ্রবেশ ইত্যাদি অনেক কারণেই এই বৃদ্ধির হার বেশি।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দেশভাগ ও পশ্চিমবঙ্গের জন্ম: ইতিহাসের চেপে রাখা অধ্যায়”

সাধন কুমার পাল:::: পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে একসময় বাংলার  রাজ্য রাজনীতি বেশ সরগরম হয়েছিল। গত 20শে জুন 2023 সালে রাজভবনে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস কিন্তু রাজ্য সরকার এর পাল্টা পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস বলে   বিধানসভায় ঘোষণা করে ।ফলত পাকে  পড়েছিল   পশ্চিমবঙ্গবাসী। পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন তাহলে  কোনটা এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে আমাদের ইতিহাসের আশ্রয় নিতে হয়। তবে এর সত্য ইতিহাস থেকে সরে গিয়ে তথাকথিত   বুদ্ধিজীবীরা সচেতনভাবে দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের উদ্ভব সম্পর্কে এড়িয়ে গেছেন এমনকি নীরব থেকেছেন সর্বোপরি পশ্চিমবঙ্গ থেকে কে পশ্চিম শব্দটি তুলে দেয়ারও যুক্তি দেখিয়েছেন তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারও অবশ্য এই মতের পক্ষে বিধানসভায় একটি বিল এনেছে সেই বিল বাম ও কংগ্রেস সমর্থন করেছে।  বিজেপি এতে অংশ নেয়নি।পশ্চিমবঙ্গের মমতা সরকারের    যুক্তি কেন্দ্রে রাজ্যের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় অ্যালফাবেট অনুসারে তাই  ওয়েস্ট বেঙ্গলের ডব্লিউ একদম শেষের দিকে...

প্রতিষ্ঠা দিবস গুলিয়ে দিয়ে এ রাজ্যকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে

ভারতের প্রথম "Gen Z Movement"

          লিখেছেন :: সাধন কুমার পাল Gen Z বা  Generation Z  হল সেই প্রজন্ম যারা মূলত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে (কিছু গবেষক ১৯৯৫–২০১০ বা ২০০০–২০১৫ পর্যন্তও ধরে নেন)। অর্থাৎ, এই প্রজন্মের মানুষদের বর্তমান বয়স আনুমানিক ১২ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। ২. নামকরণের কারণ: • Baby Boomers  (১৯৪৬–১৯৬৪) • Generation X  (১৯৬৫–১৯৮০) • Millennials  বা  Gen Y  (১৯৮১–১৯৯৬) • তার পরবর্তী প্রজন্মকে বলা হয় Gen Z। "Z" অক্ষরটি এসেছে ধারাবাহিকতার কারণে। ৩. প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য: • Gen Z হল প্রথম প্রজন্ম যারা জন্ম থেকেই ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। • এদের বলা হয় Digital Natives (ডিজিটাল-প্রাকৃতিক)। • Facebook, Instagram, YouTube, TikTok, Snapchat, WhatsApp – এসব প্ল্যাটফর্ম এদের জীবনের অংশ। ৪. শিক্ষাগত ও মানসিক বৈশিষ্ট্য: • তথ্য জানার জন্য বইয়ের বদলে বেশি ব্যবহার করে গুগল ও ইউটিউব। • মনোযোগের সময়কাল তুলনামূলকভাবে ছোট (short attention span), তবে একসাথে অনেক তথ...